আমার নকল ক্যালকুলেটর কেনার ইতিহাস

আমার নকল ক্যালকুলেটর কেনার ইতিহাস আমার নিজের কাছেই একটু মজা লাগে, হয়ত অন্য কারও কাছে তেমন মজা লাগবে না। তবে হঠাৎ আজকে কেন ক্যালকুলেটর কেনার গল্প বলতে বসলাম, তা ব্যাখ্যা করি। হাসিন হায়দার ভাই কিছু সময় আগে পোষ্ট করেছেন তার খুজে পাওয়া একটা ক্যালকুলেটরের কথা।

উনার পোষ্টে কমেন্ট করে আমার ঘটনাটা লিখতে গেলে বেশ বড় হয়ে যেতো, তাই গল্প আকারে এখানেই লিখে দিলাম।

২০০৯ এর কথা। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এর বিবিএ এর ছাত্র আমি। লেখা পড়ায় যেমন তেমন, সব কিছু আমার থাকা চাই। কিন্তু সেই আমারই নাকি ক্যালকুলেটর নাই! প্রতি পরীক্ষায় এর কাছ থেকে ওর কাছ থেকে ক্যালকুলেটর ধার করে পরীক্ষা দিতে যাই। আমি আবার এইসব জিনিষে খরচের বিষয়ে ছিলাম চরম কিপ্টা; কিন্তু খাবার খরচের বিষয়ে চরম দিল খোলা। তো, খোজঁ খবর নিয়ে জানতে পারলাম যে গুলিস্থানে এবং স্টেডিয়াম মার্কেটে নাকি ক্যালকুলেটর খুবই কম দামে পাওয়া যায়! দৌড়ালাম; দৌড়ালাম বললে মিথ্যা বলা হবে, বাসে উঠে হাজির হলাম। কোথায় কি? এ দেখি চরম চরম দাম! ১,০০০ টাকার নিচে কেউ কথাই বলে না। এক দোকানদার আমার পায়ের আধা ছেড়া স্যান্ডেল দেখে দয়াপরবশ হয়ে ৭০০ টাকা রাখতে চাইলেন। প্রচুর সাহস সঞ্চার করে ৩৫০ টাকা বলতেই ব্যাটা যেই ভাবে খ্যাক করে উঠলো, আমি সত্যিই দৌড় দিছিলাম।

মন এবং মেজাজ চরম খারাপ; মনে করবার চেষ্টা করতেছি কোন হালায় এইজায়গার খবর দিলো। হাটতে হাটতে নীলক্ষেত পৌছে গেছি। হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি খেলল। ওখানে বেশ কিছু দোকানে ক্যালকুলেটর আছে। তাদের কাছে যাবো সিদ্ধান্ত নিলাম। প্রথম দোকানে ঢুকেই বললাম, ভাই, একটা সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর দেখাবেন। অরিজিনাল হবার দরকার নাই। আমার ডুপ্লিকেটটাই দরকার; যত কম দামে হয়। লোকের মুঝ দেখার মত হইছিলো। এদিক ওদিক তাকায়; দোকানের মালিকরে বলে আপনি শুনেনতো কি বলে। আবার একই কথা বললাম। দোকানদার বলল ডুপ্লিকেট কিছু নাই; তবে ৫০০ টাকা দামের আছে। বললাম, চলবে না; আমার ডুপ্লিকেট জিনিষই দরকার।

এভাবে এদিক ওদিক হেঁটে অবশেষে পৌছালাম একজনের দোকানে। উনাকেও একই কথা বলা মাত্র উনি বললেন আবার বলতে। আবার বললাম। উনি এভাবে ৪/৫বার বলালেন। তারপর বললেন, সারা জীবন দেখলাম কাষ্টমার কম দাম হইলেও আসল খুজেঁ, আর আপনি আসছেন কই থেকে নকল খুজঁতে। আমার সোজা কথা, এত কিছু বুঝি না। আমার ঐ নকলই লাগবে।

অবশেষে দোকানদার একটা ক্যালকুলেটর বের করে বললেন কোন দামাদামী নাই, ৩৫০ টাকা দিতে হবে। আমি বেশ গম্ভীর হয়ে বললাম যে, ওকে, কিন্তু আমারে যাতায়েতের ভাড়া দিতে হবে! যাই হোক, অবশেষে ৩৩০ টাকাতে কিনে নিয়ে চলে আসলাম।

হাসিন ভাইয়ের পোষ্ট দেখে ওই ক্যালকুলেটরকে খুজে বের করলাম। প্রায় ১ বছর পর হাত পড়লো ক্যালকুলেটরে। এবং আমাকে অবাক করে দিয়ে এই নকল ক্যালকুলেটর চালু হলো। ছবিটা এই মাত্রই তুলে দিয়ে দিলাম।

my calculator

Leave a Reply