কিছু লোক গরুর পশ্চাৎদেশ চুমিবেই!

কিছু লোক গরুর পশ্চাৎদেশ চুমিবেই! কথাটা শুনে প্রথমেই ধাক্কা খাইতে পারেন, কিছু করবার না। যদি কেউ “চুমিবেই” এর অর্থ “চুমা দিবেই” বুঝে থাকেন, তাহলে ঠিকই বুঝেছেন। কিন্তু গরুর পশ্চাৎদেশ কেন? ব্যাখ্যায় আসছি।

সময়টা খুব সম্ভবত ২০১১ এর কোরবারনীর ঈদের সময়। হঠাৎ করে দেখলাম বাংলার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে বাংলাদেশের প্রায় সব ব্লগে কিছু লোক উঠে পড়ে লাগলো, গরুর জীবন বাচাইতে! প্রত্যেকের কথা “উৎসবের নামে জীব হত্যা অমানবিক”।

বেশ ক্যাচাল লাগিয়া গেল। ভাবলাম যে হয়ত এরা সব আসলেই পশুপ্রেমী। কিন্তু কই? ক্রিসমাসের দিন কেউ টার্কি, শুকর এইগুলা বাচাইতে পোষ্টতো দিলো না। বরং একটা ব্লগ থেকে আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হলো এবং বলা হলো যে আমি গরুপ্রেমীদেরকে শুকর প্রেমী বানাইতে গিয়ে নাকি দেশের মধ্যে ক্যাচাল লাগাইবার চেষ্টা করতেছি! এইডা কিছু হইলো?

কিছু লোক আমাদের আশেপাশে (পড়ুন ফেসবুক ফ্রেন্ড লিষ্টে) থাকবেই যারা এমন করে শুধু গরুর পশ্চাৎদেশ চুমা দিতে থাকবে। এরা দুনিয়ার অন্য কোন ধর্ম-বর্ণ-জাতী-গোষ্ঠির কোন কিছুতেই কোন কথা বলে না, বিচলিত হয় না; এদের যত কনসার্ন সব হলো মুসলিমরা যদি কিছু করে ফেলে তাইলেই এরা সব দোষী!

সেদিন “হামাসের যুদ্ধ বিরতি না মানা কি যুক্তিযুক্ত” শিরোনামে লিখতে গিয়ে একটা জিনিষ ব্যাখ্যা করেছিলাম যে যারা আসলে হামাসের কর্মকান্ডগুলিকে সাপোর্ট করে না, তারা সোজা কথায় দেশ বিপদে পড়লে দেশের বিপক্ষেই যাবে। এখানেও কিছু লোক আছে যারা আসলে মুসলিমদের পিছে লাগার জন্যই শুধুমাত্র হামাসের বিপক্ষে কথা বলে; দ্বিতীয় আর কোন কারণ নাই। অনেকেই এই কথাটা বললেই বলে যে মুসলিমদের সাথে এদের বিরোধটা কোথায়? আসলে এরা একপ্রকার স্বধোষিত নাস্তিক যারা দাবী করে কোন ঈশ্বর নাই, যাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো ‘খাও দাও ফূর্তি কর, দুনিয়াটা মস্ত বড়’ বুলির আড়ালে লুটে পুটে যতটুকু সুবিধা আদায় করা যায়। কিন্তু সত্য বলতে এদের এইসব ধ্যান জ্ঞান চেতনার পুটু মারবার জন্য ইসলামী যুক্তিগুলি বড়ই অকাট্য। এরা তার সাথেই বাক বিতন্ডায় জড়ায়, যার একটু ধারণা কম; বেশী ধারণা ওয়ালা লোক হলে দূর থেকে গালি দেয়! যুক্তি খন্ডাতে যায় না।

গত দু-তিনদি থেকে আমার ফেসবুক ওয়ালে কিছু ‘গরুর পশ্চাত’ চুমা দেওয়া টাইপের লোকদের দেখতেছি খুব করে ইসরায়িলের সাধারণ মানুষের বিষয়ে কথা বলতেছে; তারা খুবই চিন্তিত যে ফিলিস্তিন থেকে ছোড়া রকেট মিসাইলগুলি তাদের কত বিপদেই ফেলছে। আসলে এদের মাথা বিকৃত! এরা একটাবার হিসাব করে না যে আমার জমি একজন দখল করে আমাকে মারছে, তার বিপরীতে আমি যদি মারি তাহলে তাতে কিচ্ছু যায় আসে না, আমার কোন অপরাধ হয় না। এরা সব সময় সবলের পক্ষে।

এদের যতই লজিক দেন, এরা কখনই বুঝবে না যে ইসরায়িল ফিলিস্তিনের শত শত মাসুম বাচ্চাকে হত্যা করছে, এরা বুঝবে ফিলিস্তিন থেকে ছোড়া একটা রকেটের শব্দে ইসরায়িলের একটা বাচ্চা কেপেঁ উঠছে, সেই কষ্টটা। দোয়া করি, যেন এদের ভাগ্যে আল্লাহ কখনও ফিলিস্তিনের বাবা-মায়ের কষ্টটা না লিখেন।

ওদের তো খুব বাজে কথা বললাম, তাই না? এবার বলি আমাদের বিষয়ে। আমরা যারা এদের মত নই বলে দাবী করি, আসলে এদের এই সব ফাজলামোর বড় কারণ আমরা! কিভাবে? এরা আসলে চুমা দিয়া চলে আসা লোক, আর আড়ালে দাড়ায় মানুষের চিৎকার চেচামেচি দেখতে খুব পছন্দ করে। আমরা এদের এমন আজেবাজে কথায় মন্তব্য করতে যাই দেখে এরা আরও বেশী করে বলে। এদের আমরা যদি পাত্তা না দিতাম, তাহলে এরা এত বাড় বাড়তো না।

এই লেখাটাকে যদি কেউ মনে করেন যে ঐ লোকগুলারে পাত্তা দেবার জন্যই লেখা, তাহলে কিঞ্চিত ভূল হবে; আমি এদের পাত্তা দিচ্ছি না, মূল ম্যাসেজটা আগের প্যারার লাষ্ট লাইনে ছিলো, আমি আপনাদের অনুরোধ করছি যে এদেরকে নিজেদের মত থাকতে দিন। আমার ফ্রেন্ড লিষ্টেও এমন কিছু আবাল আছে, যারা এমন বলে। তাদের উত্তরটা এখানে দিয়ে যাচ্ছি, যার ফলে এরা না সরাসরি আমার উপরে ক্ষেপলো, আবার অন্যরাও রেফরেন্স হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে।

আপনার ফ্রেন্ড লিষ্টেও যদি এমন ‘গরুর পশ্চাৎদেশ’ চুমিবার লোক থাকে, শেয়ার করতে পারেন। কষ্ট করে হাবিজাবি পড়বার জন্য ধন্যবাদ।

2 thoughts on “কিছু লোক গরুর পশ্চাৎদেশ চুমিবেই!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *