Quality নাকি quantity?

Quality নাকি quantity? এ নিয়ে বিতর্ক যুগ-যুগের। আর এ বিষয়ে আমার বকবকানি শোনার আগে আপনি নিজেই ভোট দিন, কাজের মান (quality) নাকি কাজের পরিমান (quantity) বড়? যে কোন একটিকে ভোট দিন। দিয়েছেন? আসেন, এবার নিচের লেখা পড়ি।

অনেক আগে থেকেই মাথায় একটা চিন্তা ছিলো, আমাকে কেউ যদি ১০টা কমলা দিয়ে বলে প্রতিটা খেয়ে দেখতে, এবং এর কোনটা বিস্বাদ, আর কোনটা সুস্বাদু হতে পারে, চান্স ৫০-৫০; আর অপর দিকে যদি কেউ ১টা কমলা দিয়ে বলে, এটা এতই সুস্বাদু যে এত ভালো কমলা তুমি আগে কখনও খাও নাই; আমি নিশ্চিত ঝাপিয়ে পড়ে ঐ একটি কমলা নিবো। আমি কখনই quantity এর দিকে তাকাবো না!

কিন্তু একজন লেখকের লেখা একটি ব্লগ পড়তে পড়তে মাথায় চিন্তা আসলো, কিছুটা ভাবলাম, তারপর পাগল হয়ে গেলাম! তিনি তার ব্লগে একটি উদাহরণ দিয়েছেন। উদাহরণটা কিছুটা এমনঃ

এক শিক্ষক একবার ক্লাসের সবাইকে দু’ভাগে ভাগ করলেন। এক দলকে বললেন আগামী ২দিনের মধ্যে সবাই একটি করে মাটির হাড়ি বানিয়ে নিয়ে আসবে। শর্ত হচ্ছে এই হাড়িটি হতে হবে অসাধারণ সুন্দর এবং নিঃখুত।

আর অন্য একটি দলকে বললেন যে আগামি ২দিনের মধ্যে তোমরা প্রত্যেকে ৫০টি করে হাড়ি বানিয়ে নিয়ে আসবে। শর্ত হচ্ছে, হাড়ি গুলিকে ভালো করবার চেষ্টা করবে, তবে খারাপ হলেও সমস্যা নাই।

আপনাদের কি মনে হয় কারা সব থেকে ভালো হাড়ি তৈরী করতে পেরেছিলো? ২ দিন শেষে দেখা গেলো যাদের ৫০টা করে হাড়ি বানিয়ে নিতে বলা হয়েছে, তাদের হাড়িই সুন্দর বেশী হয়েছে। কারণ যেহেতু তাদের হাতে সময় কম, এবং বেশী সংখ্যায় তৈরী করতে হবে, তারা দ্রুত করবার চেষ্টা করেছে, একসময় বুঝেছে যে তাদের ভুল কোথায় হচ্ছে, এবং সেটা দ্রুত সুধরে নিয়ে পরের হাড়িটায় হাত দিয়েছে। কিন্তু অপর দিকে যাদের মাত্র একটি হাড়ি তৈরীর কথা বলা হয়েছে, তারা সম্পূর্ণ সময়টাই ব্যয় করেছে ভালো একটি হাড়ি তৈরীর জন্য। ফলে বার বার ভূল হয়েছে। কিন্তু তাদের হিসাবে ছিলো, যেহেতু হাতে সময় আছে এবং সুন্দর করতে হবে, তাই তারা প্রতিটিতে এত সময় বেশী দিয়েছে যে তারা তাদের ভুল গুলিই ঠিক ভাবে বুঝে উঠতে পারে নি। তাই দিন শেষে তাদের অবস্থা একটু খারাপই হয়েছে।

আসেন, এবার আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আরও একটা গল্প বলি। একটা ঠিক না, দুটি; যার একটি আমরা সবাই জানি। আপনার বাসার আশে পাশে যদি দেখেন আজকে কোন ভালো রেস্টুরেন্ট আছে, বা কোন কম্পানির প্রোডাক্ট যদি ভালো হয়, দেখবেন তাদের নাম ছড়াবে দ্রুত, তাদের বিক্রি বাড়বে; এবং এক সময় তাদের মান খারাপ হবে।

এবার আসি অন্য গল্পটিতে। আমি একবার একটি গ্রামে গিয়েছিলাম, ঐ গ্রামে একজন ময়রা (মিষ্টি বানান যারা) ছিলেন, তিনি প্রতিদিন প্রায় ২৫ কেজি মিষ্টিই তৈরী করতেন। না বেশী, না কম। তার উপাদান নির্দিষ্ট, উপকরণ নির্দিষ্ট এবং সব কিছুই তার মুখস্থ। তার ঐ ২৫ কেজি মিষ্টি বিক্রি হতে সময় লাগতো ৪-৫ মিনিট; কেননা তার কাছে মিষ্টি নেবার জন্য লোকজন এসে দাড়িয়েই থাকতো। উনাকে প্রশ্ন করেছিলাম যে আপনি দিনে কেন ২/৩ বার বানান না, বা সমান অনুপাতে উপাদান গুলা বাড়ায় দিয়ে বানান না? উনার উত্তর ছিলো, উনার হিসাবে তাহলে গড়বড় হবে। উনি প্রতিদিন যেটুকু পরিশ্রম করতে অভ্যস্ত, সেটার বেশী গেলেই গোলমাল হবে; দু’দিন না খেয়ে থাকলে তৃতীয় দিন যেমন এক সাথে তিনদিনের ভাত খাওয়া যায় না, তেমনি করে তিনিও ২৫ এর দু-তিন গুন বানাতে পারবেন না। আমার জানা মত উনার মৃত্যুর আগদিন পর্যন্তও উনার মিষ্টির মান কখনও পড়ে নি!

বহুত বকবক করে ফেললাম; আসল কথা গল্পের মধ্যেই আছে। না শুধু সংখ্যা, না শুধু মান; দরকার দুটোই। নীতি হওয়া উচিৎ এমন, সর্বোচ্চো মান দিয়ে সর্বোচ্চো কতগুলি কাজ করা সম্ভব। নিজের ক্যাপাসিটির সম্পূর্ণটা ব্যবহার করতে হবে, আবার নিজের ক্যাপাসিটির বাইরেও যাওয়া উচিৎ নয়, তাই বলে বাইরে যাবার চেষ্টা করবেন না তা কিন্তু বলি নি।

One thought on “Quality নাকি quantity?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *