সমস্যাs of দেশী guardians

সমস্যাs of দেশী guardians – মানুষের সমস্যার শেষ নাই। সমস্যাই সমস্যা। কারও জানালা খোলা থাকলে সমস্যা, কারও জানালা বন্ধ থাকলে সমস্যা। কারও বা বসে থাকতে সমস্যা, কারও বা দাড়িয়ে থাকতে সমস্যা। তবে আমরা ছোট বেলা থেকে যেই সমস্যার মধ্যে বড় হই, তা হলো আমাদের guardians দের নিয়ে সমস্যা! ছোট বেলা থেকেই আমাদের মনের মধ্যে খালি আসতে থাকে, আহা, আমি যদি আমার বাপ/মা হইতাম, তাইলে এই করতাম, ঐ করতাম, ইত্যাদি ইত্যাদি। তো বাবা মারে নিয়াই আমাগো প্রথম সমস্যার শুরু হয়। আর সেই সমস্যা গুলার কিছু জিনিষ তুলে ধরবো; আগেই বলে রাখি, এইটা ফান পোষ্ট + যেহেতু সমস্যার শেষ নাই, তাই এখানে সব কাভার করা গেলো না। পারলে সামনে episode বা series বাইর করমু।

সমস্যা ১: বাবু, তুমি এখনও বড় হওনি! বাবু, তুমি যথেষ্ট বড় হয়েছো!

টাইটেলেই সব বলা আছে, ব্যাখ্যা করবার দরকার আছে কি? তারপরও করি। দেখা গেলো ক্লাস ৮ এ পড়া একটা ছেলে হয়ত একটা কাজ করতে চাইলো, অমনি বাবা-মা বলে বসবে, তুমি এখনও বড় হওনি, এখনই এইসব ডিশিসান মেকিং এর কোন দরকার নাই। এর পরেই হয়তো এমন একটা কাজ পড়লো, যেটা করতে আসলেই ঐ ছেলে চিন্তায় হিমসিম খাইতেছে, তখনই বাবা-মায়ের কন্ঠে ভেসে আসবে। তুমি যথেষ্ট বড় হইছো, এই ডিশিসান যদি নিতে না জানো তাইলে তুমি বড় হইতেছো কেন?

ছেলে-মেয়ের তখন আসলেই বুঝতে সমস্যা হয়, সে বড় হইছে কি হয় নাই।

সমস্যা ২: যাও, বাইরে গিয়ে খেলো; সারাক্ষণ বাইরে বাইরে ঘুরো, ঘরে থাকো কখন?

দেখা গেলে ছেলে এই মাত্র ঘরে ফিরলো স্কুল থেকে। ফিরে একটু বিশ্রাম করে কম্পিউটারে গেম নিয়ে বসলো; অমনি আম্মু বা আব্বু হাজির! চিৎকার করে, “সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে থাকো; যাও, বাইরে গিয়ে খেলো গা!” ছেলেও গেলো বাইরে খেলতে, মাত্র ২ঘন্টা বাদে ফিরতেই আব্বু বা আম্মুর ঝাড়ি: সারাক্ষণ তো বাইরেই টোটো করে ঘুরে বেড়াও, ঘরে থাকো কখন?

সমস্যা ৩: ডিমে বুদ্ধি বাড়ে; ডিম খেলে পরীক্ষায় ডিম পাইবা।

এইটা যদিও গ্রামে বেশী দেখা যায়, তবে শহরেও কম দেখা যায় না। সারা বছর ডিম খাওয়াবে, বলবে ডিম খেলে বুদ্ধি বাড়ে, স্মৃতি শক্তি বাড়ে। আর পরীক্ষা দিতে যাবার আগে ডিম খাইতে চাইলে একটা চিৎকার দিয়ে বলবে, ডিম খাইয়া পরীক্ষা দিতে গেলে পরীক্ষাতেও ডিম পাইবা।

সমস্যা ৪: পাশের বাসার ছেলে এ+ পাইছে, তুমি পাওনাই ক্যান?

যাই হোক, একজন হয়ত ডিম না খেয়েই পরীক্ষা দিতে গেলো; রেজাল্টে দেখা গেলো টেনে টুনে এ গ্রেড আসছে। বাসায় ঢুকতেই বাবা-মায়ের চিৎকার: পাশের বাসার হাবলু এ+ পাইছে, তুমি এ পাইছো, যাও তার পা ধুয়ে পানি খাওগা! কিন্তু কেউ এটা বলবে না যে পাশের বাসার কাবলু যে ফেইল করছে, তুমি পাশ করছো এইটাই অনেক!

সমস্যা ৫: রিলেশন কইরো না; কি করলা? একটা রিলেশনও করতে পারলা না?

ছেলে-মেয়ে টেনেটুনে কোন রকমে বড় হয়ে ভার্সিটিতে ভর্তি হলো, প্রথমদিনেই বাবা-মায়ের নির্দেশ, প্রেম কইরো না খবরদার। টুকরা টুকরা কইরা নদীতে ভাষায় দিবো! আর দেখা গেলো যে পরে বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী পাইতেছে না তখন, কি করলা সারাজীবন? একটা মেয়ে/ছেলে পটাতে পারলা না? এখন তোমার জন্য আবার ঘটকের পিছে খরচ করতে হইতেছে।

সমস্যা ৬: আমি কি একলাই খাইটা মরমু?

দেখা গেলো ছেলে/মেয়ে সারাদিন হয়তো কোন কারণে বাসায়। আম্মুকে জিজ্ঞাসা করলো যে কোন কাজে হেল্প করা লাগবে কি না। আম্মু দিলো ঝাড়ি, যাও, পড়তে বসো। খালি পড়া ফাঁকি দেবার ধান্ধা। এর একটু পরেই আবার আম্মু যখন ক্লান্ত হয়ে পড়বে তখন চিৎকার করবে, তোর বাপ কি আমারে দাসী বান্দি হিসাবে রাখছে নাকি? আমি কি একলাই খাইটা মরমু? একটা কাজে কি হাত দেওয়া যায় না?

সমস্যা ৭: আম্মুরা ফেসবুক একাউন্ট খুলে খবরদারী করবার জন্য!

এইটা নতুন সমস্যা। এখন পোলা মাইয়া কি করে, এইটা তদারকীর জন্য আম্মুরা ফেসবুক ইউজ শিখতাছে! সে একাউন্ট খুলে আন্টিগো সাথে সারাদিন চ্যাট করবে; আর নিজের পোলা-মাইয়াগো একটু বেশী টাইম অনলাইনে দেখলেই খবর আছে। সব থেকে কষ্ট দায়ক হয় যখন আম্মু ফেসবুকে পোক মারে। আর সব থেকে লজ্জার বিষয় হয় যখন আম্মু কোন গ্রুপ ছবিতে কমেন্ট করে, তোরে এতো মোটা দেখা যাইতেছে ক্যান রে?

সমস্যা ৮: ছুটির মধ্যে বেশী বেশী পড়ে রাখো!

দেখা গেলো ছেলে-মেয়ে ক্লাস-কোচিং-বাড়ির টিচারের কাছে পড়তে পড়তে ক্লান্ত, তাকিয়ে থাকে গরমের বা ঈদের ছুটির দিকে। ছুটি আসতেই আব্বু-আম্মু এক্সট্রা একজন টিচার রেখে দিলেন! তাদের লজিক, ছুটির মধ্যে বেশী বেশী করে পড়ে রাখো, তাহলে পরে কম পড়লেও হবে। আর ছুটি শেষ হতেই লজিক, যা যা পড়ছো যদি প্রাক্টিসের উপরে না রাখো সব ভূলে খাবা, তাই বেশী বেশী পড়ো।

সমস্যা ৯: আমি জানি না, তোমার আব্বুরে জিগাও! আমারে জিগাও কেন? তোমার আম্মুকে বলো!

স্কুল থেকে পিকনিকে যাচ্ছে শহরের বাইরে। মায়ের কাছে হয়তো কোন রকম চুপি চুপি বলল ছেলে/মেয়ে, অমনি আম্মুর চিৎকার, আমি জানি না, তোমার আব্বুরে জিগাও! শুনে ফেলল আব্বু, গেলো আব্বুর কাছে, প্রথমে ঝাড়ি, পরে উপদেশ। সব শেষে, আমি এত কিছু জানি না; তোমার আম্মুরে জিগাও!

সমস্যা ১০: তোমার ছেলে/মেয়ে! আমার ছেলে/মেয়ে!

ছেলে/মেয়ে খারাপ রেজাল্ট করেছে, বা তার নামে বাসায় কোন কম্প্লেইন আসছে, আব্বু বা আম্মু যার কাছে প্রথম খবর যায় সে অপরজনকে বলে, তোমার ছেলে/মেয়ে এইটা করছে, দেখতে হবে না কার ছেলে/মেয়ে! আর যদি ছেলে/মেয়ে ভাল রেজাল্ট করে বা কেউ সুনাম করে, তখন অপর জনের কাছে বলে, আমার ছেলেমেয়ে কত ভালো, দেখতে হবে না কার ছেলে/মেয়ে!

শেষ কথা!

যাত যাই হোক, আমরা ছেলে-মেয়েরা আমাদের আব্বু আম্মুকে ভালোবাসি; হ্যাঁ এটা সত্য যে উপরের জিনিষ গুলা নিয়ে আমরা বিরক্ত হই, কিন্তু এটা আসলে আমাদের অভিজ্ঞতার জন্য! আমরা যখন বাবা-মা হবো, তখন আমরাও তাদেরই মত করবো (যদিও নিজের কাছে প্রমিজ করি যে এমন করবো না 😉 )।

উপরের বিষয় গুলিকে কেউ সিরিয়াসলি নিয়ে যদি মনে করেন যে আমি বাবা-মাকে খারাপ প্রমান করতে চেয়েছি তাহলে আপনি একজন আবাল, এ ছাড়া কিছুই না। ওহ, কয়েক ধরনের আবালের সঙ্গা দেখে নিতে পারেন এখান থেকে

আর যদি কারও মাথায় নতুন কোন সমস্যার কথা এসে থাকে, শেয়ার করেন, পরের সংখ্যায় সেটা নিয়েই লিখবো। নিচে কমেন্টের জন্য আপনার নাম, ইমেইল এড্রেস এবং কমেন্ট লিখতে পারেন, বা ফেসবুক একাউন্টের মাধ্যমে লগইন করেই কমেন্ট করতে পারেন। কমেন্ট বক্স সবার জন্য উন্মুক্ত!

Leave a Reply