বাংলাদেশে পেপ্যাল!

বাংলাদেশে পেপ্যাল! বহুত দিনের আশা, আকাঙ্খা, স্বপ্ন আরও কত কিছু। পেপ্যাল আইবো, সেই পেপ্যালে একাউন্ট খুইলা আমরা WOWzer থেকে কটকটি কিনা খাবো। দেশের সকল ফ্রিল্যান্সাররা যেমন নিজের আসল আইডি দিয়া ডলার নিবে, তেমনি দেশের প্রিল্যান্সাররা (যারা কিচ্ছু না জাইনাই ফ্রিল্যান্সিং কইরা কোটি টাকার স্বপ্ন দেখেন) একএকটা আইডি খুইলা স্ট্যাটাস দিবো। আরও কত কি।

যদ্দুর শুনেছি সরকার খুব খুব খুব চেষ্টা করতেছেন; কিন্তু পেপ্যাল এতই বদের বদ যে কোন ভাবেই তারা আসতে রাজি না। এইডা কিছু হইলো? যাই হোক, বহুত আলোচনা, সমালোচনা, ঝগড়া, বিবাদের পর আমাদের প্রতিমন্ত্রী মহোদয় গেলেন পেপ্যালের হেডকোয়ার্টারে। কি হইলো ঘটনা? পেপ্যাল দিবি কিনা বল এর উত্তরে আসলো আমরা আপনাদের জুম দিতেছি। প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ও সেইটা নিয়া ইয়াআআআআআআ বড় একটা স্ট্যাটাস দিলেন তার অফিসিয়াল (ভেরিফাইড) পেইজে। অমনি বাংলার আমজনতা না বুইঝাই থ্যাংকস দিয়া ভইরা ফালাইলো।

যাই হোক, ফেসবুকে ঘুরতে ঘুরতে (টাকা দিয়া ঘুরি, ফ্রি ফেসবুক না) জহিরুল ইসলাম ভাই, এবং সাহদাত ভাইয়ের স্ট্যাটসে প্রশ্ন দেখলাম। একজন জিগা্ছেন কদ্দুর আইলো, আর একজনও জিগাইছেন যে কদ্দুর আইলো, কারণ তিনি স্বাগত জানাইবেন। এই দুইটা প্রশ্ন মূলক স্ট্যাটাস দেখে ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেলো। আজকে সেইটাই শেয়ার করি।

ছোট বেলায় আমার মটরসাইকেল পাবার প্রচন্ড ইচ্ছা ছিলো। বাসায় কান্নাকাটির এক পর্যায়ে জাপানিজ হোন্ডা কম্পানিতে একটা মটরসাইকেলের অর্ডার দেওয়া হলো। এবং আমাকে জানানো হলো যে ৩০ দিন সময় লাগবে সেই মটরসাইকেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌছাতে। আমিও এই ৩০ দিনে ক্যালেন্ডার দেখা, সেটাতে মার্ক করা শিখে গেলাম।

৩০ দিন পর আম্মারে জিগাইলাম, মটরসাইকেল কদ্দুর? উত্তর আসলো, পোর্ট থেকে খালাস হয়ে ঢাকা পর্যন্ত আসতে আরও ৭দিন। আরও ৭দিন গেলো, আবার প্রশ্ন, মটরসাইকেল কদ্দুর? উত্তর আসলো আগামী ৩-৫ দিনের মধ্যে মটরসাইকেল খুলনা এসে পৌছাবে। ৫দিনের পর আবারও প্রশ্ন, মটর সাইকেল কদ্দুর? উত্তর আসলো, ট্রাক যশোর পর্যন্ত একে এক্সিডিন্ট করছে। তাই আমি আপাতত আর পাচ্ছি না।

কি আর করা, আবার নতুন করে মটরসাইকেলের অর্ডার দেওয়া হলো, আবার নতুন করে অপেক্ষা। এমন হতে হতে এক সময় আর ধৈর্য্য সয় না। তখন আমার এক মামা আমারে কান্দে কইরা নিয়া গেলেন খেলনার দোকানে, মটরসাইকেল মিললো না, মিললো জেট বিমান। পেছনে টেনে ছেড়ে দিলে দৌড়ায়, আর আস্তে আস্তে মাথা উপরের দিকে উঠে। আর আমিও সেইটা টানি, আর ছাড়ি, আর ভাবি, এই বুঝি আমার জেট বিমান আকাশে উড়লো।

পুনশ্চঃ এখন কেউ যদি আমার ঘটনার সাথে পেপ্যালের আসা এবং তার পরিবর্তে Xoom এর অঙ্গিকার পাওয়ার মধ্যে কোন মিল পান, তা হবে অনভিপ্রেতকাকতাল মাত্র।

পুনঃ পুনশ্চঃ আমি সেই সকল ভাই-ব্রাদারের জন্য এক মিনিটের নিরবতা পালন করছি, নিউজটি শুনেই আনন্দে ৮ দু গুনে ১৬ খান হয়ে গেছেন।

শেষ কথাঃ আমিও চাই যে বাংলাদেশে পেপ্যাল আসুক, ভালো ভাবেই আসুক। তার জন্য হুজুগ নয়, দরকার সঠিক পন্থা, সঠিক নিয়ম। আর যেই এটা আলোচনার মাধ্যমে আনতে পারবে, আমি তাকে সাধুবাদ জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *