তিনটি ঘটনা, একটি কৌতুক, এবং কিছু শিক্ষণীয় বিষয়

ঘটনা #১:

মাত্রই দেখলাম বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারের আলভেজ এর দিকে বিপক্ষ দলের একজন দর্শক কলা ছুড়ে মেরেছেন। তিনি এটা নিয়ে কোন রকম প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কলাটা উঠালেন, খেলেন এবং কর্ণার শট নিলেন। এবং পরে ঐ বেক্তি যে কলাটি ছুড়ে মেরেছিলেন তাকে ধন্যবাদ ও জনিয়েছেন এই খেলোয়াড় এবং বলেছেন যে ঐ কলাটি তাকে শক্তি যুগিয়েছিল, যার ফলে তিনি এমন ক্রস করতে পেরেছেন যাতে গোল হয়েছে।

ঘটনা #২ (ক ও খ):

বাংলাদেশের দুই রাজনৈতিকের ভিডিও আপনারা আগেই দেখেছেন, তাদের নাম আর না বলি। দুই জনেরই কাহিনী একই, বক্তৃতা দেবার সময় পায়জামা খুলে গেছে। কিন্তু যদি একটু ধৈর্য্য নিয়ে আপনি ভিডিও দুইটি দেখেন, দেখবন তারা এটা নিয়ে খুব বেশী বিচলিত না। প্রথম জনের যখন এমন ঘটনা ঘটছে, তিনি ঠেকাবার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পারেন নি; তিনি তার বক্তৃতা চালিয়ে গেছেন। আর দ্বিতীয় জনের যেটুকু ভিডিও আমরা পেয়েছি, তাতে তিনি বেশ অনেক্ষণই খোলা অবস্থায় দাড়ায় বক্তৃতা দিছেন।

ঘটনা #৩:

এটা আমার এলাকার একটা ছেলের। সে যেই স্কুলে পড়ত, সেই স্কুলে প্রাইমারী সেকশনের জন্য মাত্র একটাই টয়লেট ছিল; যা এত এত ছাত্র-ছাত্রীর জন্য কখনই যথেষ্ট ছিল না। একদিন তার পায়খানায় বেগ দিছে এবং যথারিতি স্কুলের টয়লেটে গিয়ে দেখে যে কেউ একজন ঢুকেছে। তার আবার তখন পাতলাপায়খানা চলছে। সে বুঝতে পারল যে আজকে তার লজ্জায় পড়তে হবে। তাই লজ্জায় পড়া বাঁচাতে সে স্কুলের পাশের পুকুরে ঝাপ দিল, পানির নিচে গিয়ে প্যান্ট খুলল; যা করবার করল এবং একটা ডুব সাঁতার দিয়ে সে পুকুরের অন্য পাশে গিয়ে প্যান্টটা পরে বাড়ির দিকে দৌড় দিল।

কৌতুক:

পাশাপাশি ৪ এলাকার ৪জন কমিশনার একবার এক সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছে, এবং হালকা মদও পান করছে। তাদের মধ্যে একজনের হঠাৎ মাথায় আসল যে ন্যাংটো হয়ে মদ খেতে নাকি খুব মজা। যেই বলা সেই কাজ। ৪ জনেই ন্যাংটো হয়ে মদ খাওয়া শুরু করল। তারা অবশ্য পুরাটা মাতাল ছিল না। এক পর্যায়ে এসে তারা নাচা গানা শুরু করে দিল। এতে আশেপাশের লোকজন বুঝে ফেলল যে ঘটনা একটু অন্য রকম কিছুই হচ্ছে। তারা ঐখানে হাজির হতেই এই ৪জন কমিশনার দৌড়ে পালালেন। দৌড়ে পালাবার সময় ৩জন হাত দিয়ে নিচের অংশ ঢেকে পালালেন; এবং ১জন হাত দিয়ে নিচের অংশ না ঢেকে তার মুখটা ভাল করে ঢেকে পালালেন। যখন সবার ধরা ছোয়ার মধ্যে চলে গেল, তখন ঐ ৩জন বাকি ১জনকে ক্ষেপাতে লাগল যে সবাই তোমার ইয়ে দেখে ফেলেছে। তোমার মান ইজ্জত শ্যাষ। তখন ঐ একজন বললেন, আমারে লোকজন চিনে আমার মুখ দেখে। আমার ইয়ে দেখে কেউ চিনে না। আমি মুখ ঢেকে চলে আসছি বলে কেউ বুঝতে পারেনাই যে ঐটা আমি। আর তোমাদের মুখ খোলা থাকার কারণে তোমরা যে ন্যাংটো ছিল সেটা বোঝা এবং সবাই তোমাদের চিনছে। আর পুরুষ মানুষের ঐটা দেখার আগ্রহ কারোই থাকে না বলা যায়।

আলোচনা:

Charles R. Swindoll এর ভাষ্য মতে Life is 10% what happens to you and 90% how you react to it। কথাটা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে আপনার সাথে যা ঘটে আপনি তার প্রতিক্রিয়ায় কি করেন সেটাই হচ্ছে আপনার জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উপর থেকে আবার আসেন। ঐ যে খেলোয়াড় কলাটা খেয়ে ফেলল, আপনি হলে কি করতেন? আপনি হয়ত দর্শদের মধ্যে ছুড়ে মারতেন, বা মাঠের বাইরে ফেলে দিতেন। তাতে করে কেউ আপনার প্রসংশায় মত্ত হত না। কিন্তু ঐ খেলোয়াড় কলাটি খেয়ে ফেলায় অনেকেই তার প্রসংশা করেছেন। এমনকি ঐ খেলোয়াড় যেই পয়েন্ট ধরে ঐ ছুড়ে মারা বেক্তিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, ঐ বেক্তি নিজেই একটা সংকোচে পড়ে যাবে। সে ভবিষ্যতে আর কোন দিন এমন কাজ করবে কি না তা ভেবে দেখা যেতে পারে। বরং অন্য কোন খেলোয়াড়ের প্রতি এমন কাজ করবার বিষয়টিও অন্যেরা ভেবে দেখবে।

দুইজন রাজনৈতিকের কথা বলেছিলাম, তারা জানেন যে সামনে ডেস্ক আছে, পাঞ্জাবী পরা আছে সেহেতু কেউ সামনে থেকে দেখবে না। তাই তারা বিচলিত না হয়ে সুস্থ সাবলীল ভাবে বক্তৃতা দিয়ে গেছেন। এতে না প্রোগ্রামের কোন ক্ষতি হয়েছে, না প্রোগ্রামের মধ্যে কেউ তাকে নিয়ে হাসা হাসি করেছে। ধরেন আপনি যদি ঐখানে হতেন, কি করতেন? আপনি নিশ্চই পায়জামা ঠিক করতে যেতেন এবং এতে করে সবাই বুঝত যে পায়জামা খুলে গেছে। তাতে করে হাস্যরসের সৃষ্টি হত এবং আপনার বক্তৃতা দেওয়ায়ও বাধা পড়ত। এবং সর্বপরি ঐখান থেকে আপনি মান ইজ্জত খুইয়েই বাসায় ফিরতেন।

তৃতীয় যেই ছোট ছেলের কথা বললাম, তার বিষয়টি দেখেন। কতটা প্রো-এক্টিভ সে। কাউকে বুঝতেই দেয়নি কি হচ্ছে কেন হচ্ছে এবং কিভাবে হচ্ছে। আপনি আমি হলে হয়ত টয়লেটের বাইরে দাড়িয়ে দরজায় গুতো দিয়ে যেতাম ভিতরের মানুষটিকে তাড়াতাড়ি বের হবার তাগিদ দিয়ে। এবং হয়ত ভিতরের মানুষটি মজা নেবার জন্য আরও বেশি দেরী করত; এবং এক পর্যায়ে যা হবার তাই হয়ে যেত।

আমাদের আশেপাশে অনেক ঘটনাই ঘটে, আমরা সেইগুলি হয় এড়িয়ে যাই, না হয় সেটা নিয়ে এতটাই হাস্যরস করি যে শিক্ষণীয় কোন কিছু আমাদের চোখে পড়ে না। ঐ দুই রাজনৈতিক বেক্তিকে নিয়ে আমরা হাসাহাসি করেছি; ফেসবুক-ব্লগ কাপিয়েছি। কিন্তু কাউকে দেখিনি তাদের বুদ্ধিমত্তার কথাটা একবার বলতে। কেউ হয়ত একটু চিন্তাও করেনি যে এমন ভাবে চরম বেইজ্জতির হাত থেকে সেও কখনও বেঁচে ফিরে আসতে পারবে।

একটা কথা মনে রাখবেন, “বিশ্ব জোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র”।

সব শেষে Scott Hamilton এর একটা কথা দিয়ে শেষ করব, the only disability in life is a bad attitude।

সবাই ভাল থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *