আগামীকাল কি ঈদ?

আগামীকাল কি ঈদ? এই প্রশ্নটা এই মুহূর্তে সবার মাথায়। আর আমার মনে পড়ছে ছোট বেলা স্মৃতি। যদিও বাচ্চা বয়সের কারও কাছে আগামীকাল ঈদ হওয়াটাই বেশী আনন্দের; তবে আমি বরাবরই রোজা রেখে আনন্দ পেতাম বেশি। তাই রোজা ২৯টা হলে আমার বয়সীরা যেখানে খুশি হতো, আমি হতাম কিঞ্চিৎ বেজার। কিন্তু ঈদে হলে যে আনন্দ পেতাম না এমন কিন্তু নয়। দুইটার আনন্দ দুই রকম। যাই হোক, আমার একটা স্মৃতির কথা বলি।

আমাদের বাড়িতে ডিস কানেকশনের উপস্থিতি সেই ৯০ এর দশকে তেমন একটা ছিলো না। আজ আছে তো কাল আবার কেটে দিয়েছি এমন। আর দেশে যেহেতু কোন স্যাটেলাইট চ্যানেলও নাই, তাই বাংলাদেশের কিছু বলতে বিটিভিই ভরসা। আমাদের বাড়ির সামনেই ছিলো একটা মাঠ, রোজা ২৯টি হবার সবাই সেখানে দাড়িয়ে ঈদের চাঁদ দেখার চেষ্টা চলতো। কখনও দেখতে পাওয় যেত, কখনও যেত না।

আমরা একবার দৌড়াতাম মাঠে, আর একবার ঘরে, যদি টিভিতে কিছু বলে। এমনই এক ঈদের আগে চাঁদ আমরা কেউই দেখতে পেলাম না। ভরষা এখন বিটিভি। টিভি চালিয়ে আমরা বসে আছি, এর মধ্যে উপস্থাপিকা হাজির। তিনি হাজির হয়ে কিছু বলবার আগেই আমি চিৎকার করে উঠলাম ঈদ মোবারক বলে! আর এর মধ্যেই গেলো ইলেক্ট্রিসিটি। আমার আব্বা বেশ রাগী মানুষ। উনি চিল্লাপাল্লা একেবারেই পছন্দ করেন না, তার উপরে আবার উনি বসেছেন খবরটা শুনতে, কিন্তু আমার চিৎকারের কারণে তিনি কিছুই শুনতে পান নাই। বলাই বাহুল্য যে আমিও শুনতে পাই নাই যে চাঁদ দেখা গিয়েছে কি যায় নাই। কিন্তু আমি জানি আগামীকাল ঈদ।

আমার ভবিষ্যৎ দর্শন করে আম্মার মুখ শুকিয়ে গেলো! কারণ এক্ষুনি আব্বার হাতে উঠবে লাঠি, এবং সেটা ভাঙ্গবে আমার পিঠে। রোজা রেখে দিন শেষে ছেলের পিঠে এমন মাইর কোন মায়েরই সহ্য হবে না। আব্বা আমাকে একটা সুযোগ দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো যে আমি খবরটা শুনেছি কি না! বললাম, না শুনি নাই। তার প্রশ্ন তাহলে আগামীকাল যে ঈদ তা জানলাম কি করে। পাঠক আপনার মনেও কি সেই একই প্রশ্ন? আসছি সহজ সমাধান নিয়ে।

বিটিভির একটা বড় চরিত্র হচ্ছে এরা বছরের পুরা ১১মাস যত উপস্থাপিকা আছে তাদের কারও মাথাতেই কোন কাপড় রাখতে দিবে না। কিন্তু শবে-বরাত, ঈদ-ই-মিলাদুন নবী, মহররম, রোজা ইত্যাদি কিছু ইসলামী তাৎপর্য পূর্ণ দিন গুলিতেই শুধু উপস্থাপিকাদের মাথায় কাপড় থাকে। এর আগেও লক্ষ্য করেছি যে রোজার চাঁদ দেখা গেছে এই নিউজটা পড়া হতো মাথায় কাপড় দিয়ে, আর কাপড়টা মাথাতে অটুট থাকতো ঈদের চাঁদ দেখার আগ পর্যন্ত।

সেই হিসাবে উপস্থাপিকা যখন টিভি পর্দায় হাজির হয়েছেন, তখন তার মাথার কাপড় নাই দেখেই আমি নিশ্চিত যে ইবলিস শয়তান ছাড়া পেয়ে গেছে এবং উপস্থাপিকার মাথার উপরে দাড়িয়ে কষে মাথার কাপড়ে লাথি মেরে মাথা থেকে কাপড় ফেলে দিয়েছে। এবং যেহেতু রোজার মাসে শয়তান ছাড়া থাকে না, রোজা শেষ হওয়া মাত্রই ছাড়া পায়, সেহেতু চাঁদ দেখা গেছে; এবং আগামীকাল ঈদ।

এই ব্যাখ্যা শুনে আমার আব্বা অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন; আম্মার রাগ দেখা গেলো এবার; কারণ সহজেই অনুমেয়, আমার সম্ভাব্য মারের কারণ আমিই ছিলাম।

যাই হোক, চাঁদ উঠুক না উঠুক, আমার পক্ষ্ থেকে ঈদ মোবারক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *