International-Womens-Day-2016

নারী (এর উপর নির্যাতন) দিবস!

নারী দিবস, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতি বছরই ঘটা করে পালন করা হচ্ছে দিবসটি। শুভেচ্ছা, বাণী, আরও কত কি। ইমপ্রুভমেন্ট কি হচ্ছে কোথাও?

প্রতি বছর নারী দিবস আসলেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শুরু করে দেয়ে ভিডিও বানানো, বিজ্ঞাপন আকারে চলতে থাকে সেগুলি। বর্তমানে যুগ হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার, আর তার বদৌলতে আমরা আরও বেশী বেশী ভিডিও দেখছি। কিন্তু এই ভিডিও গুলি আসলে কি বয়ে আনছে? উপকার কারা পাচ্ছে? আদৌ কি উপকার হচ্ছে? আমি জানি না এগুলি নিয়ে কোন সার্ভে হয় কি না। বা আদৌ সার্ভে করা সম্ভব কি না।

আমার মূল কথায় যাবার আগে অন্য একটি টপিক নিয়ে কথা বলি, তাহলে হয়ত ধারণা ক্লিয়ার হতে পারে। ধরেন একটা বাচ্চা, কোন কারণে তাকে জন্মের সময় অপয়া ধরে নেওয়া হলো। কথায় কথায় তাকে মানুষ উল্টা পাল্টা বলে, কিল লাথি চড় গুতো সবই তার সইতে হয়। এখন সেই বাচ্চার জন্য আমরা একটা দিবস বানালাম, ঐ দিবসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, তার আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই মিলে হেবি হেবি ভিডিও বানালাম। যেই ভিডিও গুলিতে তার উপর করা মানসিক-শারিরিক নির্যাতনের বিষয় গুলি তাকে দেখানো হলো বেশী বেশী করে। এবং কোন কারণে ধারণা করে নেওয়া হলো যে এই বাচ্চা এই ভিডিও গুলি দেখে আপন শক্তিতে জ্বলে উঠবে, সে এগুলি দেখে নিজের স্বাধীনতা পেয়ে যাবে। বিষয়টা হাস্যকর শোনায় না?

হ্যাঁ, ঠিক এমনই হাস্যকর হচ্ছে কর্পোরেট বেনিয়াদের করা এই ভিডিও গুলি। যাষ্ট নিজেদের প্রচরণা পাবার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভিডিও তৈরী করছে। যার ৮০% এর উপরে ভিডিওতে দেখানো হচ্ছে নারীর উপর করা বিভিন্ন নির্যাতন বা সেই নির্যাতনে পড়ে তার যাতনার ভিডিও। এমন না যে ভিডিও গুলি শুধু মাত্র ছেলেরা দেখবে, দেখে বুঝবে যে নারীর উপরে কি নির্যাতন করা হচ্ছে, এবং সেটা বুঝে সে ভালো হয়ে যাবে। বরং এই ভিডিও গুলি থেকে আমরা খারাপ দিকেই বেশী যাচ্ছি।

কিভাবে? ধরে নেন ঐ যে বাচ্চাটার কথা বলেছিলাম, তার উপর যারা নির্যাতন করে, তাদের যদি কোন রকম শাস্তির ব্যবস্থা না করে বরং তাদেরকে বার বার দোশী, খারাপ, ইত্যাদী বলা হয়, তাহলে কি তারা ভালো হবে বলে মনে করেন? না, বরং তারা বেশী হিংস্র হয়ে উঠার সম্ভাবনাই বেশী থাকে। ভিডিও গুলিতে তাই হচ্ছে। ছেলেরা যারা দেখছে, তাদের অনেকেই বিষয় গুলি ঠিক ভাবে মেনে নিতে পারছে না। এটা তাদের অপরাধ বা দোষ বলতে পারেন। কিন্তু এর জন্য পুরো সমাজটাই কি দায়ী নয়?

হ্যাঁ, আমি অকপটে স্বীকার করে নিচ্ছি যে ছেলেরা নারীদের উপরে নির্যাতন করছে, মানসিক এবং শারীরিক, উভয় ভাবেই। কিন্তু তাদের এই ভিডও গুলিতে সেভাবে দেখিয়ে কি খুব লাভ হচ্ছে? ভিডিও গুলি দেখলে এবং এর কমেন্ট গুলি দেখলেই বোঝা যায়। মেয়েরা বলে ফেলছে পুরুষ বিদ্বেষী কথা, আর পুরুষেরা তার প্রতিবাদ বা প্রতিউত্তর করতে গিয়ে আরও খারাপ কথা বলে ফেলছে। দিন শেষে কি হচ্ছে? নারী এমনিতেই নির্যাতিত হতে হতে কোন ঠাসা, আর তার উপর তাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে সে নির্যাতিতা এবং সাথে সাথে পুরুষকেও ক্ষেপিয়ে তোলা হচ্ছে যে সে আসলে খারাপ এটা বুঝিয়ে।

সভা সমাবেশ লেখা সবখানে এক কথায় ঢালাও ভাবে পুরুষকে খারাপ দেখিয়ে বিশাল বিশাল বক্তৃতা দেওয়া হয়। লাভ কি হচ্ছে? পুরুষকে খারাপ বলাতে তারা ভালো হয়ে যাচ্ছে? নাকি আমাদের অন্য কোন পন্থা খোজা উচিৎ পুরুষকে ভালো করতে? আর সাথে সাথে ধর্মের কথা বলেতো নাস্তানাবুদ করে দেওয়া হয়। ধর্মে এটা বলেছে, ধর্মে ওটা বলেছে, ধর্ম এই করেছে, ধর্ম ঐ করেছে। কিন্তু প্রতিটি ধর্মেই যে নারীকে সম্মান দেবার কথা বলা হয়ছে, সেটা নিয়ে কেউ কথা বলতে রাজী নয়।

একজন নারীকে কেউ পিটিয়েছে বর্ণনা করতে যেই মানুষটি বলবে “মধ্যযুগীয় কায়দায় পেটানো হয়েছে”, সেই মানুষটি কখনওই উচ্চারণও করবে না যে ঐ মধ্য যুগেই কেউ একজন দৃঢ় কন্ঠে বলেছেন যে মায়ের পায়ের নিচেই সন্তানের বেহেস্ত।

নারী দিবসের পাশাপাশি মা দিবসের কথা চিন্তা করেন। মা দিবসে দেখবেন চিত্র পুরা ভিন্ন। মা কত আপন, মা কত ভালো এগুলি দিয়েই বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকে সবাই যে কেন মা’কে সম্মান করতে হবে। কেন মা’কে ভালো বাসতে হবে। নারী দিবস গুলিতে কি এমন কিছু হতে পারতো না? আমরা কি পারতাম না ধর্মের দোহাই দিয়েই পুরুষকে বোঝাতে যে নারী কত মূল্যবান। নারীকে ধর্ম গুলিই কত সম্মান দিয়েছে। ভিডিও গুলি কি এমন হতে পারতো না যেখানে পরস্পরের ভালোবাসা ফুটে উঠবে?

নারী নির্যাতন দিবস কেন বলছি?

আমার মনে হয় না উপরের ব্যাখ্যার পরে আর কারও বুঝিয়ে বলতে হবে যে কেন এটাকে নারী দিবস না বলে নারী নির্যাতন দিবস বলছি। বিভিন্ন প্রসাধনীর প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন মেয়েদের পণ্য নিয়ে কাজ করে যে সব প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরী বিজ্ঞাপন দেখেছেন? সারা বছর তারা নারীকে বোঝায় তুমি যতই গুনান্বীত হও না কেন, চেহারা ফর্সা না হলে, তোমার চুল বড় না হলে, তুমি তোমার দেহের কিছু অংশ বের না করতে পারলে তুমি কিছু না; সেই তারাই জোরে সোরে নারী দিবস পালন করে। আর আমরা সবাই তাদের ফাঁদে পা দিয়ে অন্যদের দোষারোপ করি।

বড়ই আজব আমরা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *