আইডিয়া! খায় না মাথায় দেয়? নাকি কাজে খাটায়? এবং কি করে?

আইডিয়া

আইডিয়া কি জিনিষ? খায় না মাথায় দেয়? নাকি কাজে খাটায়? আমার মনে হয় সবাই জানেন যে এটা কাজে খাটানোর মত কিছু, যা ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, দেখাও যায় না বা অনুভবও করা যায় না। শুধু চিন্তাতে রাখা যায়, আর সেটা কাজে পরিণত করে দেখান যায়।

অনেকের ধারণা যে আইডিয়া চুরি হয় বা চুরি করা সম্ভব। আমি বলব না! কিভাবে? পারলে ফেসবুকের আইডিয়া চুরি করে দেখান না। এখনই হয়ত আপনি বলবেন যে ফেসবুক মাইস্পেসের আইডিয়া চুরি করে ফেসবুক বানিয়েছে,  তাহলে আমি বলব, যদি আইডিয়া চুরি করে ভাল কিছু করা যায়, তো আইডিয়া চুরি হওয়াই ভাল!

এখানে মূল বিষয় হল আপনার আইডিয়া আপনাকে এমনভাবে দাড় করাতে হবে, যেন সেই আইডিয়া নিয়ে আর কেউ কিছু না করতে পারে। আপনি হয়ত বলবেন যে এখন যদি কেউ ফেসবুক কপি করতে যায়, তাহলে সে সহজেই একটা প্রতিষ্ঠিত আইডিয়া পাবে। আমি বলব তা হবে না, হলে আজকে আপনি আমার এই লেখার লিংক ফেসবুকে বা গুগলে পেতেন না, পেতেন অন্য কিছুতে! কারণ ফেসবুকের দেখা দেখি Google+ চালু হয়, গুগলের দেখা দেখি বহুত কিছু চালু হইছে, কই সবাই? আর আপনার আইডিয়া একজন চুরি করে আপনার পর্যন্ত পৌছাঁতে পৌছাঁতে আপনার উচিৎ আপনার আইডিয়াকে আরও উন্নত করা এবং তা হবেই, আর আপনি না পারলে তো গাড়ি চাপা পড়তেই হবে।

এটার খুব সহজ একটা উদাহরণ আমি দেই, ধরেন আপনি একটা পাকা পেঁপে খেলেন, এবং এর বিচি সংগ্রহ করলেন। আপনার চিন্তা যে এই বিচি মাটিতে পুঁতে যত্ন নিবেন, সেই বিচি থেকে এক সময় গাছ হবে, আবার সেই গাছের পেঁপে দিয়ে আরও গাছ হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এটা আপনি চিন্তা করে বিচি গুলা ময়লার ঝুড়িতে ফেললেন আর তা ময়লা ওয়ালা নিয়ে গেল। লাভ হল?

আবার ধরেন, আপনি আর একজনর সাথে শেয়ার করেই ফেললেন যে বিচি গুলি দিয়ে কি করবেন, সে দৌড়াল বাজারে, সেও পেঁপে কিনবে। এখন দেখেন, আপনি কিন্তু এগিয়ে আছেন, আপনি যদি আলসেমী না করে এগিয়ে যান, তাহলে সব সময় ঐ লোকের থেকে বেশী এগিয়ে থাকবেন।

আবার ধরেন, ঐ লোকও আপনার পর পরই শুরু করেছে, সে আপনার প্লান জানে, আপনার মতই সে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আপনি ইনোভেটিভ, সে ফলোয়ার। সো আপনি যদি এই মুহূর্তে পেঁপের পাশাপাশি আমের ব্যবসায় ঢুকেন, তা বুঝতে ঐ লোকের বেশ সময় লাগবে।

আমার মনে হয় আপনি এত সময়ে বুঝে যেছেন যে আসলেই আইডিয়া চুরি করা সম্ভব না। আর আমার খুব কাছের কিছু গুরুজনের কথা, যেই আইডিয়া ইম্প্লিমেন্ট হয়নাই, সেইটা কোন আইডিয়াই না।

তো, আসেন এবার এক নজরে দেখি আপনার আইডিয়া বাস্তবে রুপান্তরিত করতে আপনাকে কি কি করতে হবে।

১. আইডিয়ার দোকানে ঢুকতে হবে

আইডিয়ার দোকানে ঢুকতে হবে বলতে বুঝাচ্ছি যে অনেক গুলা আইডিয়া আনতে হবে মাথায়। কারণ একটা দোকানে ঢুকলে আপনি যেমন সব পন্য কিনেন না, তেমনি আপনার আইডিয়া যে ফলপ্রসু বা ভাল হবেই এমন না। তাই অনেক গুলি আইডিয়া থেকে আপনাকে বেছে নিতে হবে সেরাটি। একটা দোকানে যেমন সব কিছুই কারও না কারও জন্য গুরুত্ব পূর্ণ, তেমনিই আপনার সব আইডিয়াই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কথা হচ্ছে আপনি ইম্প্লিমেন্ট করতে পারন এমন কিছুকেই আপনার বেছে নিতে হবে। যেমন এই মূহুর্তে জমির ব্যবসা খুবই ভালব্যবসা, কিন্তু করতে কোটি কোটি টাকা লাগবে, সেটা আপনার না থাকলে এই আইডিয়া আপনার জন্য কোন আইডিয়াই না। অনেককেই দেখেছি টাকার অভাবে বিজনেসে নামে না, আর নিজের ক্ষেত্রে দেখেছি পকেটের ২,০০০টাকা আর ধারের ৫০০ টাকা নিয়েই ব্যবসায় নামতে।

২. তা দেওয়া!

এইটা কি ডিম যে তা দিব? জ্বি, হ্যাঁ, এইটা একটা ডিম, এবং এইটাকে আপনারই তা দিয়ে বাচ্চায় পরিণত করতে হবে। কি করে? আপনার হাতে ৫টা আইডিয়া আছে, এখন কাজ হচ্ছে এর সম্পূর্ণ চিত্রটা মাঠে নামবার আগেই আপনাকে কাগজে কলমে প্রমান করতে হবে যে আপনি যেটা করতে চাচ্ছেন তা আসলেই ঠিক আছে। নিজেকে সব কিছু হিসাব করতে হবে, কি করে টাকা পাবেন, টাকা পেলে কি করবেন, না পেলে কি করবেন, ২ বছর পর কোথায় থাকবেন, ৫ বছর পর কোথায় থাকবেন, ১০ বছর পর কোথায় থাকবেন, ব্যবসায় লস করলে কি হবে, লাভ কোথা থেকে আসবে, কাষ্টমার কে, কে কাষ্টমার না, নন-কাষ্টমারকে কিভাবে কাষ্টমার বানাবেন সব সব হিসাব করতে হবে। সোজা কথা বলতে আপনাকে একটা বিজনেস প্লান দাড় করাতে হবে। আবার How to develop a business plan লিখে সার্চ দেবার জন্য লাফ ঝাপ শুরু করার দরকার নাই। আপনার নিজের মত করেই সব হিসাব করেন। কাজে দিবে।

৩. প্রয়োগের কাজে মন দিতে হবে

একবার যখন আপনি কাগজে কলমে হিসাব করেই ফেলেছেন যে কি করতে হবে, কি করতে হবে না, তখন দেখবেন আপনি নিজে থেকেই ঐ ৫টা আইডিয়া থেকে বের হয়ে এসে একটি আইডিয়ার উপরে কাজ করতে পারবেন। আপনাকে ধৈর্য্য ধরে আগাতে হবে। কাজ করতে হবে। হতাশ হলে চলবে না। মনে রাখতে হবে যেই বট গাছের শিকড় ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে, সেই বটগাছও একদিন একটা বীজ ছিল। কাজ করতে গেলেই আপনি প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জে পড়বেন, মাথা ঠান্ডা রেখে আপনাকে সব কিছুর মোকাবেলা করতে হবে। মাঝে মধ্যে মিলিয়ে দেখতে হবে যে আপনি সঠিক পথে যাচ্ছে কিনা, বা কোন পথে গেলে আপনার কাজ আরও দ্রুত এগুবে।

৪. রাখবেন? না ফেলে দিবেন?

কিছুদিন কাজ করবার পর আপনি নিজেই বুঝে যাবেন কি করতে হবে বা আপনার ভূল কোথায়। আপনাকে বিশ্বাস রাখতে হবে যে আপনি পারবেন। তবুও যদি মনে করেন যে কোন ভাবেই সম্ভব না, তাহলে দোটানা না রেখে সোজা বাদ দিয়ে দিন। তবে আমার অনুরোধ বাদ দেবার আগে শেষ চেষ্টাটা করে দেখবেন।

এখানে কিছু কথা বলে নেই। হয়ত কাজে লাগবে। ঐ যে পেঁপে গাছের কথা বলেছিলাম, ঐটার ফল পেতে কিন্তু আপনাকে কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে, বিচি মাটিতে ফেলেই ফল আশা করলে হবে না। বিডিজবসের কথা সবাই জানেন। একটা সফল প্রোজেক্ট। কিন্তু এর জন্য তাদের কত বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে জানেন? ৩-৫ বছর। আপনার যদি মনে হয় যে আপনার উদ্দ্যোগ আজকে নয়, ৫বছর পর মার্কেটে আসবে, তো ধরে রাখেন না একটু কষ্ট করে, মার্কেট লিডারের জন্য কম্পিটিশনে এগিয়ে থাকা একটু সহজই।

এক্ষেত্রে বিকাশের উদাহরণ দেই। তারা শুরু করবার অনেক পরে মানুষ তাদের কথা জেনেছে, এখন অনেকগুলি ব্যাঙ্ক একই কাজ করছে, কিন্তু আপনি কয়টার কথা জানেন? বিকাশ কিন্তু এগিয়েই আছে।

শেষ কথা

কয়েকদিন আগে এনিমেটেড একটা মুভি দেখছিলাম, সেখানে ভিলেনের একটা ডায়লগ থাকে, No dream is too big, No dreamer too small। কথাটা খুব মনে ধরেছে, আসলেই কথাটা সত্য। আজকে বিশ্বের বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলির দিকে তাকান, সবাই খুব ছোট থেকেই শুরু করেছে। কোকাকোলার মালিক এক সময় মানুষের হাতে পায়ে ধরে কোকাকোলা বিক্রি করেছে, আর এখন সেই কোকাকোলার ডিলারশীপের জন্য সারা বিশ্বের বড় বড় কম্পনির মালিক কোকাকোলার এম্প্লয়িদের হাতে পায় ধরে।

বাইরে থেকে সাফল্যকে সহজ মনে হতে পারে,বাস্তবে আসলে তা নয়।
বাইরে থেকে সাফল্যকে সহজ মনে হতে পারে,বাস্তবে আসলে তা নয়।

সবার শুভ কামনা করে লেখাটি শেষ করছি। আশাকরি আপনাদের চিন্তার খোরাক যোগাবে। ভাল থাকবেন, আর সাফল্যের পথে এগেয়ে যাবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *