মামু; ঢাহা কদ্দুর?

মামু; ঢাহা কদ্দুর? কিংবা “ও চাচা, ল যাইগা”; কিংবা “ঢাকার শহর এসে আমার পরাণ জুড়াইছে”; এই শব্দ গুলি আমাদের জন্য বেশ পরিচিত। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, আর দেশের উন্নয়ন সব কলসাকৃতির হবার কারণে ঢাকার উন্নয়ন হয়েছে কলসের পেটের সাইজে; আর বাকি স্থানের উন্নয়ন হয়েছে কলসের গলার সাইজে। যার ফলে ঢাকা এখন বাংলাদেশে সব থেকে জনবহুল এবং সমস্যাবহুল শহর।

ঈদের ছুটি ঢাকা ফাঁকা হলে তা নিয়ে টিভি এবং পত্রিকার রিপোর্টারদের বিশেষ বিশেষ রিপোর্ট করতে দেখা যায়। আর তার সাথে এবার একটি meme যোগ হয়েছে; যাতে দেখানো হয়েছে যে একজন ঢাকা শহর ছাড়ছেন এবং বলছেন যে এই অশান্তির শহর ছাড়ছেন; আর একজন ঢাকাবাসী বলছেন এই শহর ছেড়ে গিয়ে শহরটাতে শান্তি আনবার জন্য ধন্যবাদ! হ্যাঁ, আমরা যারা ঢাকার বাইরে থেকে এখানে রুটি-রুজির খোঁজে আসি, থাকি, গালাগাল করি, মূলত আমরাই এই ঢাকাকে আরও আরও জনবহুল করছি। আর আমি সেই লোকদের একজন। তবে আজকের গল্পটা সেই দিকের নয়। গল্পটা ঢাহা কদ্দুর সেটা মাপবার জন্য!

গল্প শুরুর আগে আমার নিজের সম্পর্কে কিছু কথা না বলে নিলেই নয়। ঘোরাঘুরি আমি পছন্দ করি, ঘরের থেকে বাস এবং রাস্তা বেশী ভালো লাগে! যার ফলে গত ৮ বছরে ঢাকার রাস্তার জ্যাম আমাকে একবারও বিরক্ত করতে পারে নি! আর দূরে কোথাও যেতে হলে আমার কাছে দুরত্ব কিংবা সময়টা ততসময় কোন বিষয় না; যত সময় না আমি ঐ স্থানের কাছাকাছি চলে আসি। বাড়ি খুলনা হওয়াতে মাঝে মধ্যেই খুলনা-ঢাকা করতে হয়। ঢাকা আসবার সময় দুরত্ব নিয়ে চিন্তা করি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট পার হবার পর; আর খুলনা যাবার সময় দুরত্ব নিয়ে চিন্তা করি নওয়াপাড়া পার হবার পর। এবং এই সময়টুকু আমার কাটে রাস্তার পাশের কিলোমিটার ফলক গুলি দেখে।

গল্প শুরু করা যাক, গল্পের শুরুটা জুলাই ১৫, ২০১৫ তারিখে; যেদিন রোজার ঈদের ছুটিতে খুলনা যাচ্ছি। পথে ইফতারের জন্য বাস দাড়িয়েছে, একটি কিলোমিটার ফলকের পাশে। কিলোমিটার ফলকটি দেখে বেশ চমৎকৃত হলাম। সেই চিরচেনা চার কোন হলুদ-কালো রং এর বক্সটাইপের না; গোল সাইজের একটা ফলক। আমরা মনে হয় আউট-অফ-দ্যা-বক্স চিন্তা করতে পারতেছি তাহলে!

যাই হোক, গল্পের মূল অংশে আসি। আজকে (জুলাই ২৬, ২০১৫) ঢাকা ফিরছি, যেই না ফেরী পার হয়েছি, আমার চোখ খালি কিলোমিটার ফলক খুঁজে। কিছুদুর আসবার পর দেখি সেই বক্স টাইপের কিলোমিটার ফলক গুলি, ক্যামনে কি? একটু পর বুঝলাম কিছু জায়গায় ফলক গোল, কিছু যায়গায় ফলক বক্স টাইপের। দুরত্ব তখনও ৮৯ কিলোমিটার বলে পাত্তা দিচ্ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎ একবার একটা বক্স ফলকে চোখ পড়লো, দুরত্ব তখন ৭১ কিলোমিটার। তাকিয়ে থাকলাম, এবার পেলাম একটা গোল ফলক, দুরত্ব ৬৮ কিলোমিটার! একটু অবাক হলাম কারণ নিয়ম অনুযায়ী এখানে ৭০/৬৯ থাকবার কথা। আর এর মধ্যে আমার ৩ কিলোমিটার ক্রস করি নাই আমি শিউর।

তাকিয়ে থাকলাম, এবার আবার বক্স ফলক, দুরত্ব ৬৯; হিসাবে ঠিক আছে, কারণ রাস্তার এক পাশে একটা ফলক থাকলে পরের ফলক রাস্তার উল্টা পাশে হবার কথা। কিন্তু আমি যে গোল ফলকে দেখলাম ৬৮, সেটার কি হবে। যাই হোক, তাকিয়েই থাকলাম এবং যা দেখলাম তা অবাক করবার মত। বিষয়টা এমনঃ

বক্স ফলকঃ ৬৯ কিলোমিটার – গোল ফলকঃ ৬৭ কিলোমিটার
বক্স ফলকঃ ৬৮ কিলোমিটার – গোল ফলকঃ ৬৬ কিলোমিটার
বক্স ফলকঃ ৬৭ কিলোমিটার – গোল ফলকঃ ৬৫ কিলোমিটার

বেশ একটা হিসাব করতেই পেলাম যে প্রতি প্রায় আধা কিলোমিটার পর পর ফলক গুলি আছে; এবং এক একটায় এক এক হিসাব! সাথে সাথে মনে পড়লো ৯০ এর দশকের একটা অংকের কথা; বানর তেল মাখা বাঁশ বেয়ে কদ্দুর উঠে, আবার কদ্দুর নামে! তার মানে কি? আমরাও কি একবার সামনে যাই, আর একবার পিছে আসি?

পুরা বিষয়টাকে নিয়ে মজা করা যায়; একটা হাবিজাবি ব্যাখ্যা দাড় করানো যায়। কিন্তু এর দায় কি সরকারী কর্মকর্তারা এড়াতে পারবেন? কোন হিসাবটা ভুল? কোনটা ঠিক? যেটি ভুল সেটি কেন ভুল? মাত্রই কিছুদিন আগে বড় বড় চারকোনা ফলক গুলি লাগানো হয়েছে, সেগুলির পরিবর্তে এতদ্রুত কেন এই গোলাকার গুলি? গোলাকারগুলি এত ছোট সাইজের যে লক্ষ্য না করলে দেখাই যায় না; এমন কেন? বড়গুলিতে সমস্যা কি? এতটাকা কোথা থেকে আসে? জনগনের টাকা এভাবে খরচের মানে কি? এর দায় কে নিবে? দেখবে কে?

Shafiul - শফিউল

I'm Shafiul Alam Chowdhury, I like to call myself a blogger, but I don't really blog that much. My favourite pass time is watching movies and reading books. I like to inspire people, even though me myself is not much become inspired by other people :P . I own a business, currently it focuses developing websites for companies and people. The site is SiteNameBD.com. Beside these have great plans for me and my country.

Leave a Reply