আবাল গাছে ধরে না, আমাদের আশেপাশেই ঘুরে!

আবাল গাছে ধরে না, আমাদের আশেপাশেই ঘুরে! “আবাল” শব্দটিকে কেউ গালি হিসাবে নিবেন না; এটাকে আমরা সাধারণত “বলদ” হিসাবে ব্যবহার করি। খুলনা-যশোর-সাতক্ষীরাতে এটা মূলত বেশিই ব্যবহার হয়। দেশের অন্য স্থানেও এর ব্যবহার লক্ষণীয়।

যাই হোক, যা বলছিলাম। একটু আশেপাশে লক্ষ করেন, দেখবেন আপনার আশেপাশে প্রচুর আবাল পাবেন। এদের সংখ্যা কখনও জরিপ করেও বের করা যাবে না। কারণ আবালের ফর্মেশন এক একজনে এক এক রকম। আবার অন্য হিসাবে দেখলে আমরা প্রত্যেকেই কোন না কোন ভাবে আবাল, একটু কম বেশী আছে আরকি। তবে কিছু বিষয় নিয়ে আবাল হওয়ার কোন মানেই হয় না। তেমনই কিছু আবাল নিয়ে আজকের এই পোষ্ট।

Add Me

এদের নিয়ে কি আর কিছু বলা লাগবে? FM Radio গুলা যেমন কথায় কথা বিজ্ঞাপন বিরতি নেয়, এরাও তেমন যেখানে সেখানে add me add me বলে চিল্লায়। এদের জ্বালায় কোন পাবলিক পোষ্ট দেওয়াই মাঝে মধ্যে কষ্টকর হয়ে উঠে। দেখা গেলো আপনি বহুত চিন্তা ভাবনা করে দেশ ও দশের উন্নয়নের জন্য একটা পোষ্ট লিখেছেন, অমনি নিচে কেউ একজন add me add me লিখে দিয়ে চলে গেলো। এরা হচ্ছে add me আবাল।

Leik pls

কারও কাছে মনে হতে পারে আমি ভূল বানান লিখেছি, আসলে এই ধরণের আবালরা like কে বেশীর ভাগ সময়ই leik লিখে। এরা হচ্ছে আগের add me এর দ্বিতীয় ভার্ষণ। অর্থাৎ যারা add me add me করে কিছু ফ্রেন্ড পায়, তারা শুরু করে এই leik pls; এরা আপনাকে ইনবক্সে লিখবে লাইক দিতে। এর আগে এরা মাঝে মধ্যে আপনার কতগুলা পোষ্ট এবং ছবিতে লাইক দিয়ে তারপর ম্যাসেজে বলবে যে এত গুলায় লাইক দিলাম, এবার আমার একটা ছবিতে লাইক দেন। এদের নিয়ে একটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে একটা পোষ্ট পাবেন আমার ফেসবুক স্ট্রাটাসে।

আজব নাম

এরা আর এক গ্রুপের আবাল। এদের নামের কোন মাথা মন্ডু নাই। এরা যা খুশি তাই নাম রাখে। আকাশ, বাতাস, পাখি, ফুল, কুকুর, গরু, ছাগল কিচ্ছু বাদ রাখতে যেন তারা নারাজ। এদের মধ্যে আর এক গ্রুপ আছে রাজনৈতিক দলের নামে নাম রাখে। তবে এই ক্ষেত্রে আমার বেক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে যে হারাগাছা নামের কোন এক এলাকার লোকজন এটা বেশীই করে। কারণ রাজনৈতিক দলের নামে নাম রাখা যাদের দেখেছি তাদের প্রায় সবাই শুরুতে হারাগাছা লিখে। “হারাগাছা ছাত্রদল সোহান” ও”হারাগাছা ছাত্রলীগ কবির” উদাহরণ হিসাবে নিতে পারেন। আবার এক্ষুনি যদি কেউ সার্চ দেন “হারাগাছা ডিগ্রি কলেজ” নাম লিখে, তাহলে একজনকে পাবেন। কেউ কেউ আবার রাজনৈতিক বা অন্য কাউকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করে তার নামে নিজের নাম রাখে। ফেসবুকও এই দিকে এক কাঠি সরস! তারাও ক্যামনে ক্যামনে জানি এরিস্টটল, সক্রেটিসের ফ্যান পেইজ ভেরিফাইড করে বসে আছে। আসেন আর একটা ছবি দেখি।

faltu friend requests

হুতোশে পাগল জনতা

এই টাইপ জনতা যে শুধু ফেসবুকে দেখা যায় তা না, এরা আমাদের বাস্তব লাইফেও যথেস্টই আছে। তবে এরা এদের অস্তিত্ব প্রমানে ফেসবুককে এখন যথেষ্ট ভাল ভাবেই প্রমান করছে। এদের কাজ হলো কোন কিছু একটা শুনলেই হুতোশে সেইটা ছড়ায় বেড়ানো। কোন খোঁজ নিবে না, খালি ছড়ায় বেড়াবে। যেমন যখন এই লেখা লিখছি, তখনের কথাই বলি। জার্মানির এক ফুটবল খেলোয়ার, তাকে নিয়ে মেতেছে বাঙ্গালী! কারণ সে নাকি ওয়ার্ল্ড কাপে পাওয়া সব টাকা ফিলিস্তিনী শিশুদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু যারা এটা ছড়াচ্ছে, তারা কেউ কি খবরটা একটু ঘাটিয়ে দেখছে? বিষয়টা একটা ভুয়া খবর এবং ওজিলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে সে এমন কোন কিছুর ঘোষণা দেয় নি। কিন্তু অপর দিকে আলজেরিয়ার ফুটবল টিমের খেলোয়াড়রা তাদের পুরো টাকা দিয়ে দিচ্ছে (খবর ডেইলি মেইলের), এটা নিয়ে কারও কোন নড়াচড়া নাই। মেসির একটা ছবি নিয়েও এমন ক্যাচাল গেছে কয়দিন। সত্যটা জানি না, তাই এটা নিয়ে কিছু বলছি না।

তর্কবাজ

কিছু লোক থাকে, হুদা কামে তর্ক জুড়ে দেয়। এরা সব কিছু এতই ভালো ভাবে এবং এতই বিষদ ভাবে জানে যে এদের সামনে আপনি দাড়াতেই পারবেন না। এইতো, সেদিন আমার নিজের কম্পানি SiteNameBD নিয়ে একজন আমাকেই বলতেছিলো যে কত বাৎসরিক ইনকাম হয়। পরে যখন তিনি জানলেন যে আমি ঐ কম্পানির মালিক, অমনি ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেলেন; এবং একটু পরেই কাজের অজুহাতে হাওয়া হয়ে গেলেন।

নিজে করিনা ধরি অন্যের ভূল

এই ক্যাটাগরীর জনতা অবশ্য বেশ চিন্তাশীল। এরা প্রচুর চিন্তা করে, প্রচুর জিনিষ জানে। কিন্তু কি করে? কচুও কাটে না। এরা নিজে কিচ্ছু করবে না; কিন্তু অন্যের ভূল ধরতে নিজের গাঠির খেয়ে হলেও ভূল ধরে ছাড়বে। নিজেকে নিয়েই উদাহরণ দেই। আমি মাঝে মধ্যে ফটোগ্রাফি নিয়ে টুকটাক লেখা লেখি করি। আমি কম করে হলে ১০০ জন পেয়েছি যারা সরাসরি আমার কাছে শেয়ার করেছে যে আমার লেখা পড়ে তারা কোন না কোন কিছু করেছে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা আমার ভূল ধরতে ব্যাস্ত! আমার আপত্তি নাই; কারণ ভূল মানুষেই করে, আর আমি তো ভাই ফটোগ্রাফারই না। অন্যের লেখা পড়ি, নিজে যা বুঝি সব মিলায় একটা নতুন লেখা লিখি। বেশির ভাগ সময় একপ্রকার ট্রান্সলেশন টাইপ কিছু হয়ে যায়; শুধু দেশী প্রক্ষাপট যোগ করি বাড়তি হিসাবে। কিন্তু এই টাইপ লোক তা মেনে নিতে রাজি না। তারা ফোন করে এত্তোগুলা উপদেশ দিবে। মাঝে লিখেছি high ISO  নিয়ে; কি করে নয়েজ ছাড়া high ISO তে কাজ করা যায়। লেখাটা পড়লেই যে কেউ বুঝবে যে high ISO নিয়ে মানুষের ভয়টা দূর করবার জন্যই লেখা। একজন ফোন করে এটা লেখা যেতো, ঐটা লেখা যেতো শুরু করেছেন। কিন্তু কোন ভূল ধরতে পারেন নাই। তো সব শেষে উনাকে বললাম যে এইসব লিখতে গেলে কত পৃষ্ঠা লেখা লাগতো? উনি নিজেই স্বীকার করলেন যে প্রায় একটি ১০০ পৃষ্ঠার বই লাগবে। আমার মনে হয়না আপনাদের আর কিছু বলতে হবে। পরে উনাকে বললাম যে আপনি এতো পারেন, তো আপনি লেখা শুরু করেন, আমাদের উপকার হবে। উনি খট করে ফোনটা কেটে দিলেন (সত্যিই ফোনে একটা জোরে শব্দ হয়েছিলো)।

শেয়ার ফ্রিক আবাল

এরা আবার কারা? এরা হচ্ছে এক দল লোক, যারা মনে করে কিছু একটা জিনিষ শেয়ার করলে সমাজের-জাতীর-পৃথিবীর সব কিছুই উদ্ধার করা হয়ে যায়। এরা সারাদিন বসে বসে কোন একটা নিউজ শেয়ার করলে ১০০ রেস্পেক্ট, ১টা নিউজ শেয়ার করলে ১০০ জুতার বাড়ি ইত্যাদি কাজে ব্যস্ত থাকে। এদের যদি সমাজের কোন উপকারে ডাকেন, এরা আর সেখানে নাই। এরা ঘরে বসে ফেসবুকে শেয়ার করে ঝড় তুলতেই ওস্তাদ। এর বাইরে এদের পাডাইলেও যাবে না। হ্যাঁ অবশ্য শাহবাগে হওয়া ঢোল-তবলা এবং পুলিশি পাহারার মত কোন প্রোগ্রাম হলে এরা অবশ্য মাঝে মধ্যে সেখানে পায়ের ধূলা রাখে।

যাই হোক, এমন আও আবাল আমাদের আশেপাশেই ঘুরে। কোন একজন কবি বলিয়াছেন, আবাল কর্মকান্ডকে কর ঘৃণা, আবালকে নয় (কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত)।

14 thoughts on “আবাল গাছে ধরে না, আমাদের আশেপাশেই ঘুরে!

    • শেষ পর্যন্ত কমেন্ট যে করছেন এইটাই অনেক…. পারলে শেয়ার কইরেন। 😉

  1. ভালো লেগেছে। শেয়ার করলাম। সত্যি কথা বলবার জন্য ধন্যবাদ।

  2. দারুন হয়েছে ! কিন্তু কমেন্ট যে করলাম আমার কোন আবালের অন্তর্ভুক্ত হবো রে ভাই ? :O , যেটাতেই হোক দারুন জিনিস লিখোছোন । 😀

Leave a Reply